![]() |
||||
| E-newsletter: September 2016 | ||||
|
|
||||
জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
শ্রমিকের কর্মঘন্টা বাড়িয়ে তামাকের মতো বিষপণ্যের উৎপাদন বাড়ানো কিভাবে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট হয়। তামাক উৎপাদনের প্রতিটি স্তরেই শ্রমিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি জড়িত রয়েছে। একই বেতনে ৮ কর্মঘন্টার স্থলে ১০ কর্মঘন্টা কাজ করলে শ্রমিকের আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত স্বার্থ দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। তামাকের উৎপাদন বাড়লে তামাকজনিত মৃত্যু বাড়বে। কিন্ত তামাক কোম্পানি লাভবান হবে। তামাক কোম্পানিকে লাভবান করে তামাক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ১০০, ১০২, ১০৪, ১০৫ ও ১১৪ (১) এর বিধানের প্রয়োগ হতে শর্তসাপেক্ষে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটিবি) কোম্পানিকে অব্যাহতি দিয়েছে। জনস্বার্থে এই অব্যাহতি মর্মে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শ্রম আইনের ১০২ ধারা অনুযায়ী সপ্তাহে ৪৮ কর্মঘন্টা নির্ধারিত থাকলেও এই প্রজ্ঞাপনবলে বিএটিবি শ্রমিককে সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করাতে বাধ্য করতে পারবে। এছাড়া আইনের ১০৪ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপুরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি (অর্থাৎ কোন শ্রমিক তাহার প্রাপ্য ছুটি হতে বঞ্চিত হলে উক্তরূপ ছুটির সমসংখ্যক ছুটি) প্রদানের বাধ্যবাধকতা এবং ১১৪ (১) ধারার (শিল্প প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দেড় দিন বন্ধ রাখার বিধান) প্রতিপালন হতে কোম্পানিটিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে কোম্পানিটি প্রত্যেক শ্রমিককে পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে মাত্র ০১ (এক) দিন ছুটি প্রদান করবে। একইসাথে আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী একজন শ্রমিকের কর্মসময়ের সম্প্রসারণ আহার বিশ্রামের ১ ঘন্টা বিরতিসহ দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ ঘন্টার অধিক না হওয়ার বিধানের প্রয়োগ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছায় আগ্রহী শ্রমিকদের দ্বিগুণ মজুরি প্রদান সাপেক্ষে অতিরিক্ত সময় কাজে নিয়োগ করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ৩২৪ এর উপ-ধারা (১) ও উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে শ্রম মন্ত্রণালয় ৬ মাস (২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে ১৭ মার্চ ২০১৭) এর জন্য কোম্পানিটিকে এই অব্যাহতি প্রদান করেছে মর্মে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। অব্যাহতি প্রদানের এই সময়টা মূলত তামাক চাষ ও তামাক পাতা ক্রয়-বিক্রয়ের মৌসুম। শ্রমিকদেরকে অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর জন্যই এই অব্যাহতি আদায় করে নিয়েছে কোম্পানিটি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে বছর বছর মোটা অংকের টাকা অনুদান প্রদান করে বিএটিবি। এছাড়া বর্তমান শ্রম সচিবকে এবছরের মার্চ মাস থেকে বিএটিবির ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসবের সূত্র ধরেই কোম্পানিটি এমন শ্রমস্বার্থবিরোধী অব্যাহতি পেয়ে থাকতে পারে। এছাড়া বর্তমানে দেশের সর্বত্রই তামাক পণ্যের কৌশলী বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ব্যাপকভাবে চোখে পড়ছে। আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হলেই কেবল এসব অবৈধ প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে।
|
||||
![]() | ||||