জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
আবুল খায়ের টোব্যাকো গত ৬ বছরে তামাক পাতা ক্রয়ের বিপরীতে ৩৫ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি কেজি তামাকপাতা ক্রয়ের বিপরীতে কোন ভ্যাট পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এর আগেও ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া, চলতি বাজেট (২০১৭-১৮) অনুসারে বহুজাতিক তামাক কোম্পানির নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেট ৩৫ টাকা বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও বিএটিবি তা ২৭ টাকায় বিক্রি এবং সে অনুযায়ী কর প্রদান করছে। আসন্ন বাজেটকে প্রভাবিত করতে বিড়ি কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার নামে মানববন্ধনসহ নানাধরনের অসত্য তথ্য-উপাত্ত প্রচার অব্যাহত রেখেছে। আগামী ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) এর সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর প্রাক-বাজেট বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকটি যেন আর্টিক্যাল ৫.৩ এর সুপারিশ মেনে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হয়। কারণ, অতীতে দুই দফা তারিখ পরিবর্তন করে গোপন বৈঠক করা এবং প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নজির রয়েছে সংগঠনটির। তামাকে বর্ধিত করারোপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম প্রধান রক্ষাকবজ। এ কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি শক্তিশালী তামাক কর নীতি প্রণয়নও বর্ধিত করারোপের তাগিদ দিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা, আসন্ন বাজেটে (২০১৮-১৯) এসবের প্রতিফলন ঘটবে।
|