![]() |
||||
| E-newsletter: June 2019 | ||||
|
|
||||
জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
ফিলিপ মরিস (পিএমআই) এর অর্থপুষ্ট ‘ফাউন্ডেশন ফর এ স্মোক-ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককে অর্থায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্র্যাক প্রায় একইসময়ে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস এর অর্থায়নে তামাক কর বিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ব্র্যাকের ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে রিসার্চ এন্ড লার্নিং পার্টনার হিসেবে বিতর্কিত এই সংগঠনটির লোগো রয়েছে। ‘ফাউন্ডেশন ফর এ স্মোক-ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ তামাকবিরোধী কার্যক্রমের ছদ্মাবেশে মূলত পিএমআই এর ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজ করছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের এক নম্বর এনজিও হিসেবে স্বীকৃত ব্র্যাক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য দারিদ্র্য নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এবং সরকারের নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জনস্বাস্থ্যবিরোধী এক ফাউন্ডেশনের এহেন সম্পৃক্ততা তামাকবিরোধীদের দারুনভাবে হতাশ করেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপি এর Due Diligence And Partnerships নীতি অনুসরণ করে ব্র্যাকও এক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির সাথে সম্পর্ক পরিহারের নীতি গ্রহণ করতে পারে। ‘ফাউন্ডেশন ফর এ স্মোক-ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ এর বিতর্কিত কার্যক্রম প্রতিহত করতে ভারত, ভিয়েতনাম এবং পোল্যান্ড সরকারিভাবে তাদের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের পক্ষ থেকে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি প্রদান করা হয়েছে। চিঠিতে সকল সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাকে এই ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ গ্রহণ না করার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্দেশনা জারির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, তামাক কোম্পানিগুলোকে ব্যাপকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রেখে পাস হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। তামাকপণ্যে করারোপ প্রতিহত করতে বাজেট প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই তামাক কোম্পানিগুলো সংঘবদ্ধ মিডিয়া ক্যাম্পেইনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ, ট্যাক্স লবিস্ট এবং সংসদ সদস্যদের ব্যবহার করেছে। যার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে বাজেটে, নিম্নস্তরের সিগারেটে প্রতি শলাকায় মাত্র ২০ পয়সা এবং বিড়ির প্রতি শলাকায় মাত্র ৬ পয়সা মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে, মূল্যস্তরভেদে সিগারেট কোম্পানিগুলোর জন্য ৩১ শতাংশ পর্যন্ত আয় বৃদ্ধির সুযোগ রেখে দেওয়া হয়েছে। রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং উপকরণ কর রেয়াত তামাক কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি করবে। তামাক কোম্পানিকে সুবিধা দেয়ার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে হবে, তা না হলে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন অধরাই রয়ে যাবে। |
||||
![]() | ||||