![]() |
||||
| E-newsletter: February 2020 | ||||
|
|
||||
জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
তামাকপণ্যের দাম বাড়লে সিগারেটের চোরাচালান বাড়বে, রাজস্ব কমবে, লক্ষ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে প্রভৃতি গতানুগতিক প্রচারণার সাথে এবারে জাতীয় বাজেটের আগে নতুন একটা আলোচনা যুক্ত হয়েছে। তা হলো, দেশি তামাকপণ্যে (সিগারেট, জর্দা ও গুল) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর লেড, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি। খবরটি ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্যকে পুনরায় গবেষণা করে একই ফলাফল প্রকাশ এবং সেটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা কোনো স্বাভাবিক বিষয় হতে পারেনা। তামাকজাত পণ্য এবং ধূমপানের ধোঁয়ায় প্রায় ৭,০০০ এর বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক চুক্তি “Framework Convention on Tobacco Control (FCTC)” প্রণয়ন করেছে। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ২০১২ সালে তামাকে থাকা ৯৩টি ক্ষতিকর উপাদানের তালিকা প্রকাশ করে যেগুলো ক্যানসার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ি এবং এই তালিকায় লেড, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামও রয়েছে। কাজেই দেশি হোক আর বিদেশি হোক, তামাক মানেই বিষ। তামাক কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ের জন্য এধরনের কূটকৌশল গ্রহণ করে থাকে। মালয়েশিয়ায় ২০১৫ সালে একটি গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয় যেখানে, দেশিয় সিগারেটের তুলনায় অবৈধভাবে আসা সিগারেটে বেশি টার এবং নিকোটিন আছে বলে প্রচার করা হয়। ব্রিটেনেও একইভাবে ২০১৬ সালে অবৈধভাবে আসা সিগারেটে বেশি মাত্রায় ক্যানসার সৃষ্টিকারি উপাদান রয়েছে বলে প্রচার করা হয়। সুতরাং বাংলাদেশেও এধরনের প্রচারণার সাথে তামাক কোম্পানির কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। সাধারণত এধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলো সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের সাথে আলোচনায় বসার সুযোগ পায়, যা তাদের তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তামাক কোম্পানিগুলো বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষতিকর হিসেবে স্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও ইলেক্ট্রনিক সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ইত্যাদি নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যকে সিগারেটসহ প্রথাগত তামাকপণ্যের ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে বাজারজাত করার চেষ্টা করে আসছে। প্রথাগত বা দেশিয় তামাকপণ্যে বেশি ক্ষতি প্রচরণার মাধ্যমে নীতি-নির্ধারকদের বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করে ই-সিগারেটসহ আধুনিক তামাকপণ্য আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য আইনি ও কর সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে পারে তামাক কোম্পানিগুলো। ৪৯ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠির এই দেশও এখন তামাক কোম্পানির লোভনীয় বাজার । তামাক কোম্পানিগুলো যেন এই বিশাল তরুণ সমাজকে তামাকাসক্ত করতে না পারে সেবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সজাগ থাকতে হবে। এর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের পথ সুগম করতে হবে।
|
||||
![]() | ||||