জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা (ডিএসএ) বিলুপ্তিকরণ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশোধনী প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে কোম্পানিগুলো। ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইপিএবি) এবং জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি (নাসিব) তামাক কোম্পানির পক্ষে ডিএসএ বিষয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করে নীতিপ্রণেতাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) ডিএসএ বিলুপ্তিকরণ সার্বিকভাবে তামাক ব্যবসাকে হুমকির মুখে ফেলবে দাবি করে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে। অতিসম্প্রতি জনস্ হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) পরিচালিত একটি গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে, ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা (ডিএসএ) অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে পারে না এবং এই বিধান চালু রেখে ধূমপানমুক্ত আইন বা নীতির সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। কাজেই বাংলাদেশে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিএসএ বাতিল করা প্রয়োজন। এছাড়া অন্য একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে কিভাবে তামাক কোম্পানিগুলো নগদ টাকা ও সরঞ্জামাদি প্রদানের মাধ্যমে রেস্টুরেন্টগুলোতে ডিএসএ স্থাপনে উৎসাহিত করে থাকে। আইনি দুর্বলতার কারণেই কোম্পানিগুলো এধরনের কূটকৌশল অবলম্বনের সুযোগ পাচ্ছে। শতভাগ ধূমপানমুক্ত আইন জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন সহায়ক। বর্তমানে থাইল্যান্ড, নেপাল, পাকিস্তান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৬৭টি দেশ পূর্ণাঙ্গ ধূমপানমুক্ত আইন প্রণয়ন (‘ধূমপানের জন নির্ধারিত স্থান’ রাখার বিধান বাতিলসহ) ও বাস্তবায়ন করছে। আমাদের প্রত্যশা সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিএসএ বাতিলসহ প্রস্তাবিত খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি চূড়ান্ত করবে।
|