![]() |
||||
| E-Newsletter: March 2023 | ||||
|
|
||||
জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অধিকতর শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে আইনের একটি খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য কেবিনেট ডিভিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় ভেটিং শেষে খসড়াটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। কিন্তু এই সংশোধনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলো ফ্রন্টগ্রুপ, ‘থার্ড পার্টি’, বিভিন্ন জোট এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে ব্যবহার করছে। একইসাথে স্বাস্থ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন মন্ত্রণালয় বা সংস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ প্রয়োগ, সুবিধাভোগী অর্থনীতিবিদদের মাধ্যমে নিবন্ধ ও কলাম প্রকাশ এবং পেইড মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে কোম্পানিগুলো। ‘থার্ড পার্টি টেকনিক’ হিসেবে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আইপিএবি’র মাধ্যমে পলিসি ডায়লগ আয়োজন করে খসড়া সংশোধনীটি অযৌক্তিক মর্মে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতিকে (নাসিব) ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএটিবি এবং জেটিআই বেশ কয়েকটি অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্যবসায়িক চেম্বারের কমিটিতে রয়েছে এবং এসব সংগঠনের মাধ্যমেও প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনীর বিভিন্ন ধারার বিপক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ই—সিগারেট প্রস্তুতকারক তামাক কোম্পানি সমর্থিত ফ্রন্ট গ্রুপ ‘ভয়েস অব ভেপারস’ এবং বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন— বেন্ডস্টা’ ই—সিগারেট নিষিদ্ধের প্রতিবাদে প্রেস কনফারেন্স, ওয়েবিনার ইত্যাদি আয়োজন অব্যাহত রেখেছে। ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল (পিএমআই) এর ফ্রন্ট গ্রুপ ‘ফাউন্ডেশন ফর এ স্মোক—ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ এর সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ই—সিগারেট ও ভেপিং সমর্থনকারী গ্রুপের তথাকথিত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল ই—সিগারেট নিষিদ্ধের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহবান জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। আইন সংশোধন বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনায় চোরাচালান বৃদ্ধি ও রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তুলে ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) এবং এই চিঠি আমলে নিয়ে প্রস্তাবিত খসড়া সংশোধনীর বাস্তবায়ন বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে চিঠি দিয়েছে এনবিআর। আইনের সংশোধনী সম্পর্কে নীতি—প্রণেতাদের বিভ্রান্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলো সুবিধাভোগী অর্থনীতিবিদদের ব্যবহার করে ভিত্তিহীন তথ্য—উপাত্ত সম্বলিত নিবন্ধ, কলাম ইত্যাদি প্রকাশ করছে। এছাড়াও মিডিয়া ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে কোম্পানির তৈরি করে দেয়া একইরকম প্রতিবেদন একযোগে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হতে দেখা গেছে। তামাক কোম্পানিগুলো তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে পৃথিবীব্যাপী প্রায় একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে থাকে। সুতরাং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কোম্পানির কূটকৌশলে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
|
||||
![]() | ||||