জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
Coalition of Asia Pacific Tobacco Harm Reduction Advocates (CAPHRA) আইন সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য গণমাধ্যমে প্রচার করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে তামাকের ক্ষতিহ্রাসে বাংলাদেশকে ভেপিংপণ্য সহায়ক নীতি গ্রহণের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কর্মরত আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে তারা। উল্লেখ্য, CAPHRA দীর্ঘদিন ধরে ই-সিগারেট ও ভেপিংপণ্যের প্রচারে সক্রিয় এবং প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী সমন্বয়কারী তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকেন। অতি সম্প্রতি বেশকিছু গণমাধ্যম বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে যেখানে আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিকে সম্পৃক্ত করার কথা বলে নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিকে সম্পৃক্ত করার কোন সুযোগ নেই। সরকার জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে ২০২১ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। খসড়া প্রকাশ, অংশীজনদের মতামত গ্রহণ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আইনটি উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে খসড়াটি পুনরায় পরিমার্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং একই বছরের ৯ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি প্রস্তাব জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি এবং সময়োপযোগী। তামাকের কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়। আইন সংশোধন যত দেরি হবে, তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু ততই বাড়তে থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, তামাক কোম্পানির অপতৎপরতায় বিভ্রান্ত না হয়ে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে খসড়া আইন চূড়ান্ত করবে।
|