জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে সিগারেট বাদ দিতে সম্প্রতি ‘The control of essential commodities (Amendment) Act, 2021’ বিল আনা হয়েছে। তবে সংশোধনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে ইতোমধ্যে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সিগারেট কোম্পানিগুলো। উল্লেখ্য, ২০২০ এর এপ্রিলে লকডাউন চলাকালীন দুইটি বহুজাতিক কোম্পানিকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে সিগারেট ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করে শিল্প মন্ত্রণালয়। তামাকবিরোধীদের প্রতিবাদ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ সত্ত্বেও এই বিশেষ অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়নি। পরবর্তীতে মাননীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী সিগারেটকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য ‘The control of essential commodities Act, 1956 এর Section 2(a) এর clause (XX) বিলুপ্ত করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করেন। অতিসম্প্রতি ‘‘স্থানীয় সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ গাইড লাইন‘‘ বাস্তবায়ন বিষয়ক একটি সভায় ‘বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনকে’ আমন্ত্রণ জানানো হয়। তামাকবিরোধীদের পক্ষ থেকে তামাকনিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসি অনুসরণ করে তামাকনিয়ন্ত্রণ বিষয়ক নীতি প্রণয়ণ প্রক্রিয়ায় কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত না করার পরামর্শ প্রদান করা হলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। এছাড়া, তামাকনিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পেইড মিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু করেছে তামাক কোম্পানিগুলো। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য-উপাত্ত প্রচারের মাধ্যমে জনগণ ও নীতি-প্রণেতাদের বিভ্রান্ত করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তামাকনিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে সিগারেট বাদ দিতে হবে এবং স্থানীয় সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ গাইড লাইন বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের মুখে অরক্ষিত রেখে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
|